
রাজধানীতে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। কারণ, বিস্ফোরণের ধারাবাহিকতার মধ্যেই তাঁর একটি বক্তব্য নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়েছে—তিনি এমন কথা কেন বললেন?
সম্প্রতি এক প্রতিবাদ মিছিল শেষে পাটওয়ারী বলেছিলেন, সরকার তাঁদের তিনটি দাবি মেনে নিলে ঢাকায় আর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটবে না। তাঁর এই বক্তব্যের পরই ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে তাঁর বক্তব্যের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, কিংবা তিনি কোনো তথ্যের ভিত্তিতে এমন মন্তব্য করেছেন কি না—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা বিষয়টি তুলে ধরলে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-সাউথ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, পাটওয়ারী কেন এমন বক্তব্য দিয়েছেন, তা জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। তবে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নেবেন বলেও জানান তিনি।
প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে কারণ একই সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে ককটেল তৈরির উপকরণ ও ৯ হাজার কাগজের মুখোশ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পুলিশ বলছে, এসব উপকরণ ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের পরিকল্পনা ছিল।
এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—পাটওয়ারী কি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন, নাকি ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়ে তাঁর কাছে এমন কোনো তথ্য ছিল যার ভিত্তিতে তিনি এতটা নিশ্চিত হয়ে মন্তব্য করেছিলেন? যদি তিনি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ভিত্তিতে এমন কথা বলে থাকেন, তাহলে সেই তথ্যের উৎস কী—তাও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
তবে পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ককটেল বিস্ফোরণে সরাসরি জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি পরিষ্কার করতে তাঁর বক্তব্য, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করাই হবে তদন্তের মূল বিষয়।
রাজধানীর নাশকতার ঘটনাগুলোর প্রকৃত পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতাদের শনাক্ত করার পাশাপাশি পাটওয়ারীর বক্তব্যের পেছনের তথ্যও যদি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা হয়, তাহলে ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে চলমান প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া সম্ভব হতে পারে।